ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম

 

আমরা কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় কাঙ্খিত দিনে আমরা যেতে পারি না। সে ক্ষেত্রে ট্রেনের টিকিট ফেরত কিভাবে দিব সেই বিষয়ে আমরা অনেকেই জানিনা।                                                   

তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা ট্রেনের টিকিট ফেরত দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানব। আমরা যারা ট্রেন ভ্রমণকারী তাদের জন্য ট্রেনের টিকিট রিফাট করার নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম ও শর্তাবলী নিচে দেওয়া হলো।

পোস্ট সূচিপত্রঃট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম জানতে পড়ুন 

ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম 

বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ অনলাইন কিংবা কাউন্টারের ক্রয় করা টিকিট ফেরত কিংবা বাতিল করার সিস্টেম চালু করেছেন। ২০২৩ সালে পহেলা মার্চ রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনের টিকিট ফেরত দেওয়ার সিস্টেম চালু করেছেন যার মাধ্যমে আমরা কোন ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করতে পারব। আজকাল অনলাইন জগতে এসে টিকিট ক্রয় করা কিংবা বাতিল করা যাত্রীদের জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে উঠেছে। 
তবে বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ অনুযায়ী টিকিট কাটেন এবং অন্যকে পরামর্শ দিন। রিফান্ড সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ট্রেন ছাড়ার 12 ঘন্টার কম সময়ের আগে টিকিট বাতিল করলে সাধারণত রিফান্ড পাওয়া যায় না। যাত্রার তারিখ পরিবর্তন ক্ষেত্রে রিফান্ড নীতি আলাদা হতে পারে। ট্রেন বন্ধ থাকলে বা ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়লে রেফার পাওয়া যেতে পারে। আমরা সকলের জন্য সাবধানে ট্রেন চলাচল করব।

অনলাইনে টিকিট বাতিল করার নিয়ম 

আজকের এই ২০২৬-এ এসে অনলাইন মানুষের জীবনে একটি বড় জায়গা করে নিয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ এখন বেশি নির্ভরশীল। খাবার পোশাক থেকে শুরু করে সকল প্রকার কাজের জন্য মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আসছে। এখন আর ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য স্টেশনে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ঘরে বসে হাতে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন অ্যাপ এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটা যায়। তবে শুধু টিকিট কাটা নয় অনলাইনে টিকিট বাতিল ও করা যায়। তবে চলো দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ট্রেনের টিকিট অনলাইনে এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
 
  • ,,প্রথমে আমরা রেল সেবা অ্যাপস এর ভেতরে প্রবেশ করব।
  • তারপর আমরা সেখানে Buy Ticket, My Ticket, My Account নামক তিনটি অপশন দেখতে পাবো।
  • তিনটি অপশনের ভেতরে আমরা My Ticket অপশনে ক্লিক করব।My Ticket অপশন দিতে ক্লিক করার পর আমাদের সামনে আরো দুইটি অপশন আসবে সেটা হচ্ছে view Details and Cancel Ticket. টিকিটটি বাতিল করতে চাইলে অবশ্যই cancel অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
  • এখন আমাদের সামনে যে অপশন গুলো আসবে সেখানে আমরা টিকিটের মূল্য ট্রেনের টিকিট ফেরত দিলে কত টাকা পাবো এই সকল বিষয়ে যাবতীয় তথ্যগুলি দেখতে পাবো। 
  • এরপর আমাদের সামনে Ticket cancellation অপশনটি আসবে। টিকিট ফেরত দিতে সেখানে ক্লিক করব। 
  • এরপর ভেরিফিকেশন করতে হবে। ভেরিফিকেশন করার সময় অবশ্যই আপনাদের জিমেইল নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। ভেরিফিকেশন কোডটি অবশ্যই তিন মিনিটের ভেতরে সাবমিট করতে হবে। 
  • ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর Refund in progress অপশনটি সামনে আসবে। সেখানে ok বাটন দেখতে পাবেন এবং সেটিকে ক্লিক করতে হবে। এরপর দেখবেন আমাদের কাজটি কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে। 

টিকিট বাতিল হলে টাকা সবচেয়ে ওভাবে আপনি যে পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করছিলেন সেখানে রিফান্ড হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করার নিয়ম 

আজকের এই ২০২৬-এ এসেও অনেকেই অফলাইনে কিংবা কাউন্টারে গিয়ে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আমাদের টিভির ডিফান্ড করতে হলে কাউন্টারের মাধ্যমে করতে হবে। তবে একটা কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ এবং অনলাইন থেকে টিকিট সংগ্রহের নিয়ম এবং চার্জ প্রায় সিম কেটে থাকে। তবে চলো জেনে নেই কিভাবে কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট রিফান্ড করতে হয়।
  • প্রথমে আমরা যে স্টেশন থেকে টিকিট ক্রয় করেছি সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। 
  • তারপর আমাদের কাছে আমাদের ক্রয় করার টিকিট দিতে হবে এবং কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। 
  • এরপর কর্তৃপক্ষ আমাদের টিকিট বাতিল করার কার্যক্রম চালু করবে। 
  • অতঃপর কিছু সময়ের মধ্যে ধার্যকৃত চার্জ কেটে বাকি টাকা আমাদের ফেরত দিবে 
                                                                 

এছাড়াও আমরা একটা কাজ করতে পারি। ট্রেন ছাড়ার এক ঘন্টা কিংবা ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে যাব। এমন অনেক মানুষ আছে যারা কাজের চাপে আগে থেকে টিকিট কাটতে পারে না আমরা চাইলে তাদের সাথে কথা বলে আমাদের টিকিট তার কাছে বিক্রি করতে পারি। এতে করে সেই মানুষটাও একটা টিকিট পাবে আর আমরাও পুরো টাকা দিয়ে টিকিট বিক্রি করতে পারব । এতে করে কোন প্রকার চার্জ দিতে হবে না।

টিকিট ফেরতের নিয়মাবলী 

ট্রেনের মাধ্যমে ভ্রমণ যাত্রীগণ যারা অনলাইন কিংবা কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট কিনে কিন্তু কারণবশত টিকিট ফেরত দিতে চান তারা ফেরত দিতে পারবেন। টিকিট ফেরতের একটি নির্দিষ্ট টাইম রয়েছে আর এই টাইমের উপর নির্ভর করে আপনি কত টাকা ফেরত পাবেন। তবে চলুন জেনে নিই কতক্ষণ সময়ের মধ্যে  কত টাকা কাটতে পারে সে সম্পর্কে।

  • আপনি যদি যাত্রা আরম্ভের ৪৮ ঘন্টা পূর্বে টিকিট ফেরত দেন তবে সে ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৪০ টাকা অথবা ১০ ভাগ যেটা বেশি সেটা কেটে নেওয়া হবে। 
  • আটচল্লিশ ঘন্টার কম কিন্তু ২৪ ঘন্টার বেশি সময়ের ক্ষেত্রে ৪০ টাকা অথবা ভাড়ার ৫০ ভাগ কেটে নেওয়া হবে। 
  • ১২ ঘন্টার কম কিন্তু ৬ ঘন্টার বেশি সময়ের ক্ষেত্রে ৪০ টাকা অথবা ভাড়ার ৭৫ ভাগ চার্জ কেটে নেওয়া হবে। 
  • ৬ ঘন্টার কম সময়ে এর ক্ষেত্রে কোন টাকা ফেরত দেওয়া হয় না। 
টিকিট কাউন্টারের ডিসপ্লে তে খালি আসন ও ভাড়া ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য জানার সুবিধা রয়েছে। আমরা সকলেই প্রায়ই রেল ভ্রমণ করি তবে রেল ভ্রমণ সবসময়ই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

ট্রেন ভ্রমণের শর্তাবলী ও নিয়ম 

ট্রেন চলাচল করতে হলে আমাদের অবশ্যই কিছু নিয়ম জেনে রাখা দরকার। বাংলাদেশ রেলওয়েতে ভ্রমণের জন্য এনআইডি(NID) দাঁড়া যাচাইকৃত নিজস্ব টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। টিকিট ছাড়া ভ্রমণ দণ্ডনীয় অপরাধ সাথে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। ট্রেন চলাচলে বৈধ টিকিট সাথে রাখা এবং প্ল্যাটফর্মে সতর্কতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিন থেকে বারো বছরের শিশুদের জন্য টিকিট ক্রয় করা বাধ্যতামূলক।
                                                        


 বিন নাম আসলে জাতির সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ব্যবহার্য সামগ্রী: এসি ৫৬ কেজি, প্রথম শ্রেণীর ৩৭.৫ কেজি, সোচ্চার ২৮ কেজি, সুলভ ২৩ কেজি। চলন্ত ট্রেনে উঠানামা করা যাবে না। দরজার কাছে দাঁড়ানো নিষেধ এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। দাহ বা বিস্ফোরক দ্রব্য যেমন:অ্যাসিড, গ্যাস সিলিন্ডার, স্টোভ বা সিগারেট বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ যা আইনগত অপরাধ। ট্রেনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। বাংলাদেশ রেলওয়ে জাতীয় সম্পদ। আমরা সতর্কতাঃ সাবধানতার সাথে চলাফেরা করি।

ট্রেন ভ্রমনে যেসব সতর্কতা পালন করবেন 

ট্রেন ভ্রমণ আরামদায়ক ও সুন্দর হলেও কিছু সতর্কতা জরুরি। টিকিট এবং আইডি কার্ড সবসময় সাথে রাখুন। যাত্রার সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মোবাইল মানিব্যাগ সাবধানে রাখুন। মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করবেন না এতে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ট্রেনের-টিকি- রিফান্ড-করার-নিয়ম


 নিজস্ব খাবার বা বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে খাবার কিনুন। ট্রেনের ট্যাবের পানি পান না করাই ভালো এটা থেকে বিরত থাকুন। উচ্চস্বরে কথা বলা বা গান শোনা থেকে বিরত থাকুন যাতে অন্য যাত্রীর বিরক্ত না হয়। ট্রেন স্টেশনে আসার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে নামুন। নিরাপদ ও আনন্দদায়ক যাত্রার জন্য এসব সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন।

আইডি কার্ড দিয়ে ফোন নম্বর রেলওয়ে রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম 

এখন কাউন্টারে কিংবা অনলাইনে টিকিট ক্রয় করার জন্য অবশ্যই মোবাইল নম্বর দিতে হয় কিন্তু ওই মোবাইল নম্বর রেলওয়ে রেজিস্ট্রেশন করা থাকতে হবে তবে চলুন জেনে নিই আইডি কার্ড দিয়ে ফোন নম্বর রেলওয়ে স্টেশন করার নিয়ম।

  • প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।
  •  তারপর Register বা আপনি বন্ধন বাটনে ক্লিক করতে হবে। 
  • এরপর সক্রিয় ফোন নম্বর আইডি কার্ড নম্বর এবং জন্মতারিখ প্রদান করুন।
  •  এনআইডি ভেরিফাই করার জন্য verify বাটনে ক্লিক করুন।
  •  তথ্য সঠিক হলে আপনার ফোনে একটি ওটিপি আসবে। কোডটি নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে ভেরিফাই করুন।
  •  এবার একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন এবং আপনার ইমেল ও ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।

শেষ কথাঃ ট্রেনের টিকিট ডিফারেন্ট করার নিয়ম 

আমরা প্রায় সবাই ট্রেন ভ্রমন করতে পছন্দ করি। কিন্তু অনেকেই টিকিট ফেরত ভবনের সতর্কতা নিয়ম আইন অনলাইন টিকিট ফেরত করার নিয়ম কারণ জানেনা। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমি জয়া আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি কিভাবে টিকিট রিফান্ড করতে হয়। আশা করছি আজকের পরে ট্রেন ভ্রমণের সকল নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং অপ্রকৃত হয়েছেন।
 ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শহর বাসির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url